বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেনাবাহিনী


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান ৬৮তম

১০ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী
পাকিস্তানী সেনাবাহিনী

>>পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জন্ম ১৯৪৭ সালে যার বর্তমান সৈন্যের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার । এই বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অবদান প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্থান ও ভারতের সাথে সীমান্তযুদ্ধ, ৯০ দশকে সোমালিয়া এবং উপসাগরীয় যুদ্ধে উপস্থিতি। এই বাহিনী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আল-কায়েদা ও তালেবান নির্মূলে কাজ করছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তারা।

৯ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী


>>ইসরায়েল বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে পুরুষ এবং মহিলাদের সমন্বয়ে প্রতিরক্ষাবাহিনী গঠিত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এর সৈন্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার । উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আরব-ইসরায়েল ছয় দিনব্যাপী যুদ্ধ, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব।
অন্যতম সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রজোট করে বিশ্বব্যাপী ইহুদি আগ্রাসন সৃষ্টি।

 ০৮ রাশিয়ান সেনাবাহিনী


>>১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক রাশিয়ান সেনাবাহিনী গ্রাউন্ড ফোর্স হিসাবে পরিচিত। যার বর্তমান সৈন্যের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ২৭ হাজার। পূর্ববর্তী রাশিয়ান সামরিক বাহিনী রেড আর্মি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব, উভয় বিশ্ব যুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল রাশিয়ান সামরিক বাহিনী । ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতন আগে এটি ছিল বিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক বাহিনী । যা সেই সময় সৈন্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র সংখ্যার দিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
৭ তুর্কি সেনাবাহিনী

>>তুর্কি সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০০ সালে। এর সৈন্যের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান বিশ্বকে চমকে দেয়। যদিও তুর্কি সেনা কোরিয়ান যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল। সীমান্তযুদ্ধে রাশিয়া, ব্রিটেন, গ্রীস, ফ্রান্স ও ইতালি প্রতিদ্বন্দিতা করেছে। তুরস্ক দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে ন্যাটোর গ্রাউন্ড ফোর্স হিসেবে কাজ করছে।

  ৬ উত্তর কোরিয়ান সেনাবাহিনী



>>উত্তর কোরিয়ান সেনাবাহিনী ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। যার সৈন্যের সংখ্যা ১১ লাখ ৬ হাজার। কোরিয়ান যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ান সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চাপা উত্তেজনা আজও বিদ্যমান।
উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হয়েছে তার পারমাণবিক এবং রাসায়নিক অস্ত্র যোগ্যতা প্রমান করে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জোট বাধা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে তারা হুমকি হতে পারে।

৫ জার্মান সেনাবাহিনী
জার্মান সেনাবাহিনী

>>হিটলারের উত্থান জার্মান সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থান তৈরি করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য জার্মান সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয় যখন পোল্যান্ডকে আক্রমন করে হিটলার বাহিনী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি পূর্ব এবং পশ্চিম এই দুই ভাগ হয়। ১৯৯০ সালে পূর্ব এবং পশ্চিম জার্মানি একত্রিত হলে নবউদ্যমে যাত্রা শুরু করে জার্মান সেনাবাহিনী । বর্তমানে এর সৈন্যের সংখ্যা ২ লাখ।

৪ ভারতীয় সেনাবাহিনী
ভারতীয় সেনাবাহিনী

>>ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালে। বর্তমানে এর সৈন্যের সংখ্যা ১১ লাখ।
বিশ্বযুদ্ধ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনতার জন্য লড়াই জড়িত করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনী।

৩ ব্রিটিশ সেনাবাহিনী

ব্রিটিশ সেনাবাহিনী
>>ব্রিটিশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬১ সালে। ফরাসী সম্রাট্ নেপোলিয়েনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, বিপ্লবী যুদ্ধ এবং উভয় বিশ্ব যুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান ছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং বালকানস এর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ৯/১১ এর পর থেকে স্থায়ীভাবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সক্রিয় সৈন্যের সংখ্যা ২ লাখ ২৭ হাজার । যা ফ্রান্সের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী।

২ চীনা সেনাবাহিনী

চীনা সেনাবাহিনী
>>বিশ্বের বৃহত্তম চীনা সেনাবাহিনী ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত, যার সৈন্যের সংখ্যা ২২ লাখ ৮৫ হাজার। সিনো-জাপানি দ্বন্দ্ব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল এই বাহিনী।
ছেলেদের ১৮ বছর হলে চীনা সেনাবাহিনীতে আবেদন করতে পারে।

১ মার্কিন সেনাবাহিনী
মার্কিন সেনাবাহিনী

>>মার্কিন সেনাবাহিনী ১৭৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বাহিনী দু’টি বিশ্ব যুদ্ধে অংশগ্রহন, কোরিয়ান যুদ্ধ, ভিয়েতনাম, উপসাগরীয় যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে ওভার রিজার্ভ এবং ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যের সংখ্যা ১৪ লাখ ৫৬ হাজার। এই বাহিনী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে জার্মানি, ইতালি, কসোভো, জাপান ও কোরিয়ার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।




বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের রয়েছে নিজস্ব সেনাবাহিনী । যার কাজ হল আভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শত্রু থেকে নিজ সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেনাবাহিনীর তালিকা করা হয়েছে সেনা ইতিহাস, বর্তমান কার্যক্ষেত্র, সেনা সংখ্যা সর্বোপরি দক্ষতা ও খ্যাতির ভিত্তিতে। এই সেনাবাহিনীর অধিকাংশ ১ম বিশ্বযুদ্ধ্ব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং কোরীয় যুদ্ধে জড়িত ছিল। উপরন্তু, এই সামরিকবাহিনী তাদের নিজ দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে সরাসরি জড়িত ছিল।
Powered by Blogger.